অর্থ মন্ত্রণালয়ে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

3090
অর্থ মন্ত্রণালয়ে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

খুচরা-পাইকারি পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও সেলস ডাটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) মেশিন কিনতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মেশিন কেনার পর সেগুলো স্থাপন করা হবে পাইকারি ও খুচরা দোকানে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ইএফডি ও এসডিসি মেশিন কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এখন অর্থ বরাদ্দ হলেই মেশিন কেনা শুরু হবে।

এনবিআরের হিসাবে সারা দেশে ৪০ লাখ পাইকারি ও খুচরা দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানে ভ্যাট আদায়ের জন্য ইএফডি স্থাপন করলে ৪০ লাখ মেশিন দরকার। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ ইএফডি ও ১৫শ’ এসডিসি মেশিন কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এরমধ্যে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার এক লাখ ইএফডি ও ৫শ’ এসডিসি মেশিন কিনবে। সেবাসহ প্রতিটি মেশিনের পেছনে ব্যয় হবে ৩২ হাজার টাকা। পরবর্তী দুই অর্থবছরে বাকি ২ লাখ ইএফডি ও এক হাজার এসডিসি মেশিন কেনা হবে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হয়েছে। এটি আরও দশ বছর আগে হওয়া দরকার ছিল। এ কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি। ভ্যাট আদায় করার মেশিন নেই। আইনগত জটিলতার কারণে এটি আগেও কেনার সুযোগ ছিল না।

এ ধরনের মেশিন কিনতে হলে সংসদে বিল আকারে পাস হতে হবে। তিনি আরও বলেন, একাধিক কোম্পানির কাছ থেকে এক লাখ মেশিন কেনা হবে।

জানা গেছে, এসব মেশিন সরবরাহ করা হবে ব্যবসায়ীদের। মেশিনের মূল্য ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ মেয়াদে কিস্তিতে সরকারকে পরিশোধ করবেন। তবে এসব মেশিন এনবিআরের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মেশিনগুলো পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে স্থাপনের পর ভ্যাট আদায়ের জন্য আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোকবল নেয়া হবে। দেয়া হবে তাদের প্রশিক্ষণও।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি বছর এক লাখ মেশিন (সেবাসহ) কিনতে ব্যয় হবে ৩২০ কোটি টাকা। এই টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। পর্যায়ক্রমে বাকি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।

সূত্র মতে, ইএফডি ও এসডিসি মেশিন কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেতে সম্প্রতি অর্থনৈতিক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের জন্য একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে এনবিআর। সেখানে বলা হয়, সারা দেশের খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, আসবাবপত্রের বিপণন কেন্দ্র, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, মেট্রোপলিটন এলাকায় শপিংমল, বিপণিবিতানে অন্তর্ভুক্ত সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ডিপার্টমেন্টাল ও জেনারেল স্টোর, অন্য বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী, স্বর্ণকার ও রুপার দোকানের লেনদেন সরাসরি তত্ত্বাবধানের জন্য ইএফডি মেশিন স্থাপন করা হবে।

ইএফডি মেশিন মূলত একটি সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে ক্রেতাদের কেনাকাটার বিল করবে প্রতিষ্ঠান মালিক/কর্মচারী। সেখানে ভ্যাটসহ মোট লেনদেন উল্লেখ থাকবে।

আর এ মেশিন যুক্ত থাকবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সার্ভারের সঙ্গে। অর্থাৎ গাজীপুরের একজন মিষ্টির দোকানে বিক্রেতা যে বেচা-বিক্রি করবে সেটি এনবিআর সার্ভারের মাধ্যমে জানতে পারবে। ফলে এ মেশিন স্থাপনের পর ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

সারসংক্ষেপে আরও বলা হয়, ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ ইএফডি মেশিন কিনতে এনবিআর ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান পদ্ধতির আওতায় ক্রয় কার্যক্রম শুরু করে। এতে পাঁচটি কোম্পানি অংশ নেয়। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে তিনটি প্রতিষ্ঠান কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়।

দেশে খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০ লাখ বলে উল্লেখ করা হয় সারসংক্ষেপে। এতে বলা হয়, আগামীতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। ফলে এখনই এ বিষয়ে পর্যাপ্তসংখ্যক সরবরাহকারী নিয়োজিত করা প্রয়োজন।

এ ধরনের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিশ্বে খুব বেশি নেই। অপরদিকে রাজস্ব সংবেদনশীলতার সংশ্লেষ থাকায় সঠিক প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচনের পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে যে কোনো একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হয় সে বিবেচনায় একাধিক সরবরাহকারীকে নিয়োগ দেয়া সমীচীন।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করা হয়েছে। এটি ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সরকার ভ্যাট ফাঁকি রোধে প্রতিটি দোকানে মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আসলে এ ধরনের মেশিন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা আগে ছিল না। এটি দেশে প্রথম। ওই হিসাব মাথায় রেখেই এসব মেশিন কেনাকাটা করা হবে। তবে এক লাখ মেশিনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার মেশিন আগে আনা হবে। সেগুলো দিয়ে কাজ শুরুর পর বাকি ৯০ হাজার মেশিন কেনা হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই অর্থ বরাদ্দ করা হবে।