কোনো ক্রিকেটার বলতে পারবে তারা কিছু চেয়ে পায়নি: পাপন

3090
কোনো ক্রিকেটার বলতে পারবে তারা কিছু চেয়ে পায়নি: পাপন

ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি নিয়ে মঙ্গলবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলন করে হতাশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

বিসিবি সভাপতি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম খেলোয়াড়রা কিছু দাবি-দাওয়া দিয়েছে। তারা বলেছে দাবি আদায় না হলে খেলবে না। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না আমাদের খেলোয়াড়রা এমন করতে পারে। ওদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক ভালো। তারা আমার সঙ্গে যে কোনো মুহূর্তে তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারে। আমার মনে হয়না তাদের সঙ্গে আমার চেয়ে ভালো ভালো সম্পর্ক অন্য কারও আছে।

ইমরুল কায়েসের ছেলে অসুস্থ। সে আমাকে রাতে ফোন করে বিষয়টা বলল। সে আমাকে বলল বাচ্চার অবস্থা খুব খারাপ সিঙ্গাপুর নিতে হবে। আমার ভিসা নেই কালকের মধ্যে ভিসা নিয়ে বিদেশ যেতে হবে। আমি তাকে বললাম তুমি বিমানের টিকিট কেটে নেও আমি ব্যবস্থা করছি। একদিনের মধ্যে আমি তার জন্য ভিসার ব্যবস্থা করলাম। রাতে আবার ফোন দিয়ে বলল বিমানে ভিআইপি ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। আমি সেটাও করলাম।

জাতীয় লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে তামিম খেলছে না দেখে আমি তাকে ফোন করলাম। সে বলল পাপন ভাই আমার পায়ে একটু ব্যথা লেগেছে। আমি বললাম খুব সিরিয়াস। সে বলল তেমন কিছু না দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

সাকিব সিপিএলে খেলার সময় আমি দুইবার ফোন করে তার খোঁজ খবর নিয়েছে। ও আমাকে একবার ফোন করে একটা বিষয় জানতে চাইল।

সিপিএল খেলে দেশে ফেরার পর আমি নিজ ওকে ফোন করলাম। ভারতে আমাদের যে দল যাবে সেই দল নিয়ে সাকিব কথা বলল। ও একটা খেলোয়াড়ের কথা বলল। আমি তাকে বললাম সে তো ফর্মে নেই রান পাচ্ছে না। কিন্তু সাকিব বলল না ওরে আমার খুব দরকার। তো খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার প্রতিনিয়তই কথা বার্তা হয়।

এদের একজন না, একাধিক জনের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। অথচ তারা এভাবে কাউকে না জানিয়ে আন্দোলনে নামবে বিশ্বাস হচ্ছে না।

আমরা যখন দায়িত্ব নিলাম তখন ওদের সেলারি ছিল ১লাখ ৫০ হাজার টাকা। আমরা সেখান থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করলাম।

এশিয়া কাপ শেষে শ্রীলংকা থেকে দেশে ফেরার পর মাশরাফি এবং তামিম বিমান বন্দরের লাউঞ্চে আমার সঙ্গে কথা বলল। তারা বলল পাপন ভাই আমাদের বেতন বাড়িয়ে দেন। আমি বললাম বাড়িয়েছিতো। ওরা বলল আরও কিছু টাকা বাড়ান। আমি বললাম কতো। ওরা বলল ৫০ হাজার টাকা বাড়ান। আমি বললাম যাও ঠিক আছে। ২লাখ ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ করে দিলাম। ওদের সঙ্গে আমার যে কথা হয় না, তা কিন্তু না। প্রতিনিয়ত কথা হয়।

কিন্তু এখন যে তারা দাবি-দাওয়া চেয়ে আন্দোলনে নামল, এখন পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটার বলতে পারবে যে আমার সঙ্গে এ নিয়ে কেউ একজন কথা বলেছে। কোনো ক্রিকেটার বলতে পারবে তারা কিছু চাইচে আমরা তাদের দেইনি।