‘জানি বিচার চেয়ে লাভ নেই তবুও আবরারের খুনিদের বিচার চাই’

3090
 ‘জানি বিচার চেয়ে লাভ নেই তবুও আবরারের খুনিদের বিচার চাই’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নতদন্তে তাকে পিটিয়ে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যাক্তিদের মধ্যে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাও রয়েছেন। আটক ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাউল ইসলাম জিওন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার।

আবরারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তার সহপাঠী, বন্ধু ও শুভাকাঙক্ষীরা। বিক্ষোভ মিছিল হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও। এতে অংশ নেন ঢাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।

বৃষ্টিতে ভিজে আবরার হত্যার বিচার দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা আবরার হত্যার বিচার দাবি করে নানা স্লোগান দেন। তাদের হাতে শোভা পায় প্ল্যাকার্ড। একটি প্ল্যাকার্ডের লেখা নাড়া দেয় সবাইকে।

’জানি বিচার চেয়ে লাভ নেই তবুও আবরার হত্যার বিচার চাই’। এটি আবরার হত্যার বিচার দাবিতে প্রতীকী রূপ নেয়।

আবার হত্যার বিচার দাবিতে ফেসবুকেও প্রতিবাদী স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনেকে। প্রবাসী ফারাবি মাহমুদ লিখেছেন— ’আমি ছাত্র থাকাবস্থায় স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে মাইর খাওয়ার থ্রেট খাইছি। আমার ইমিডিয়েট জুনিয়র ব্যাচের ছাত্র স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে মাইর খাইছে। আর আমার হলের ছয় বছরের জুনিয়রকে পিটিয়ে মেরেই ফেলল! জানি, বিচার নাই; তবু বিচার চাই! চিৎকার করে বিচার চাই।’

প্রসঙ্গত, রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের নিচতলা থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বুয়েটের হল শাখার ছাত্রলীগের নেতারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও তাকে পিটিয়ে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।

মারা যাওয়া আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন শের-ই বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে।

আবরারের বাবার নাম বরকতুল্লাহ। তিনি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের নিরীক্ষক কর্মকর্তা ছিলেন। মা রোকেয়া খাতুন একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়। ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সেও ঢাকা কলেজের হোস্টেলে থাকে। বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের কাছেই তার হোস্টেল। কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাসার পাশেই তাদের বাড়ি।

আবরার ফাহাদ নিহত হওয়ার ঘটনায় তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার মায়ের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।