রাতে আবরারকে বারবার ফোন দিয়েছিলেন মা

3090
রাতে আবরারকে বারবার ফোন দিয়েছিলেন মা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সঙ্গে তার মায়ের শেষ কথা হয় রোববার বিকাল ৫ টায়। এরপর রাতে আবরারের ফোনে বারবার ফোন করেও সাড়া পাননি মা রোকেয়া খাতুন।

আবরারকে পিটিয়ে হত্যার খবর পেয়ে বিলাপ করতে করতে এ কথা বলছিলেন তার মা। সোমবার দুপুরে আবরারের কুষ্টিয়া শহরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এই দৃশ্য। ছেলেকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন মা। চেতন পেলেই শুরু হয় বিলাপ।

পরিবারের সদস্যেরা জানান, ১০ দিন আগে ছুটিতে আবরার ও তার ছোট ভাই বাড়িতে এসেছিলেন। ২০ তারিখ পর্যন্ত বাড়িতে থাকতে চেয়েছিলেন আবরার। তবে সামনে পরীক্ষা, পড়া হচ্ছে না বলে রোববার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়ে মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘গতকাল সকালে আমি তাকে নিজে গিয়ে বাসে তুলে দিই। সে ঢাকায় রওনা দেয়। মাঝে তিন থেকে চারবার ছেলের সঙ্গে কথা হলো আমার। বিকেল পাঁচটায় হলে পৌঁছে ছেলে আমাকে ফোন দেয়। এরপর আর কথা হয়নি। রাতে অনেকবার ফোন দিয়েছিলাম, ফোন ধরেনি।’ এ কথা বলেই মূর্ছা যান রোকেয়া খাতুন।

আবরারের ছোট ভাই জানায়, ফোন না ধরায় সে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে আবরারকে নক করে। আবরার ফেসবুকে অ্যাকটিভ ছিল, তবে সাড়া দেননি।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের নিচতলা থেকে আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বুয়েটের হল শাখার ছাত্রলীগের নেতারা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও তাকে পিটিয়ে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।

মারা যাওয়া আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন শের-ই বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে।

আবরারের বাবার নাম বরকতুল্লাহ। তিনি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের নিরীক্ষক কর্মকর্তা ছিলেন। মা রোকেয়া খাতুন একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবরার ফাহাদ বড়। ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সেও ঢাকা কলেজের হোস্টেলে থাকে। বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের কাছেই তার হোস্টেল। কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাসার পাশেই তাদের বাড়ি।

আবরার ফাহাদ নিহত হওয়ার ঘটনায় তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার মায়ের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

পরিবার জানিয়েছে, ফাহাদের কোনো শত্রু ছিল না। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমর্থক। তাদের সন্তানকে কেন এভাবে জীবন দিতে হলো, বুঝে উঠতে পারছেন না।

আবরারের চাচা মিজানুর রহমান বলেন, সে শিবিরের কর্মী, এমন কথা রটাচ্ছে সবাই। এটা বানোয়াট, আমরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। হানিফ সাহেবের বিভিন্ন মিটিংয়েও আমরা যাই। আবরার এমনিতে তাবলিগে যেত। বুয়েটে ভর্তির পর দুই-তিনবার সে তাবলিগে গিয়েছিল।