রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: সরকারকে বিএনপির ১০ সুপারিশ

3090
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: সরকারকে বিএনপির ১০ সুপারিশ

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকারকে ফের জাতীয় ঐক্য আহ্বান জানিয়ে ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিকালে গুলশানে লেকশোর হোটেলে বিএনপির উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের ভুমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ’আমরা জানি, এই সরকারের কোনো নৈতিক অবস্থান নেই। তারা অনির্বাচিত সরকার। সুতরাং তাদেরকে বিশ্বজনমত তৈরি করতে হলে জনগনকে সামনে নিয়েই এই অভাবটা পুরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই সেমিনারের মধ্য দিয়ে আমরা সরকারের কাছে পৌঁছাতে চাই। জনগনের কাছে পৌঁছাতে চাই, বিশ্বমানবতার কাছে পৌঁছাতে চাই।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ও জাতিসংঘ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ ভুমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফখরুল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবার পুরনো খেলা শুরু করেছেন। তিনি বিএনপিকে দায়ী করতে শুরু করেছেন এবং তিনি আমাকেও দায়ী করেছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিএনপি উস্কে দিচ্ছে, আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আত্মহননের কথা। আমরা মনে করি যে, এই ধরনের কথাবার্তা শুধুমাত্র রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না, মিয়ানমারকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সমস্যা আরও বৃদ্ধি করবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার ব্যর্থ মন্তব্য করে এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারকে ১০ দফা সুপারিশ দেয়া হয়।

সুপারিশগুলো হলোর মদ্যে উল্লেখযোগ্য-হলো- জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, নিজের মাতৃভুমিতে অবাধ চলাচলের নিশ্চিতকরণ, বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রসমূহকে নিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, প্রত্যাবাসনের আগে ও পরে জাতিসংঘের তত্বাবধায়নের মিয়ানমারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে সুযোগ রাখা, রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যাতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি না হতে পারে সে ব্যাপারে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রভৃতি।

১০ দফা সুপারিশ পেশপূর্বক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবার পুরনো খেলা শুরু করেছেন, বিএনপিকে দায়ী করতে শুরু করেছেন এবং তিনি আমাকেও দায়ী করেছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিএনপি উস্কে দিচ্ছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন মন্তব্যে প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আত্মহননের কথা। আমরা মনে করি যে, এই ধরনের কথাবার্তা শুধুমাত্র রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না, মিয়ানমারকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সমস্যা আরও বৃদ্ধি করবে।

তিনি যোগ করেন, রোহিঙ্গারা যাতে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে জীবনসম্পদ সম্ভ্রমে অখণ্ড নিরাপত্তা ও পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ মাতৃভুমিতে বসবাস করতে পারে সেই নিশ্চয়তা বিধান কল্পে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।

সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও তাদের প্রত্যাবাসনে পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সেটা সরকার পারেনি। এই সরকারের ব্যর্থতা, তাদের অনভিজ্ঞতা, নতজানু পররাষ্ট্র নীতি তাদের এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে, মিয়ানমারের পাতা ফাঁদে পড়ে গেছে এই সরকার। এখান থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি এখন বাংলাদেশের জন্য সত্যিকার অর্থে বিপদজনক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে হলে এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে ওটা করা সম্ভব হবে না। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের করতে হবে।

গোলটেবিল আলোচনা সভায় বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কানাডা, ফ্রান্স, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, আফগানিস্তান, তুরস্ক, জাতিসংঘ, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল প্রভৃতি দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন।

তবে কূটনীতিকরা কোনো বক্তব্য রাখেননি।

আলোচনায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র কমিটির চেয়ারম্যান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এতে রোহিঙ্গাদের আগমনের প্রেক্ষাপট, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের প্রতিবেদন এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তাদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মইন খান, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সচিব এএইচএম মোফাজ্জল করীম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী ও অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের পরিচালনায় গোল টেবিল আলোচনায় দলের স্থায়ী বিএনপির কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল মান্নান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, আবদুল আ্উয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, সুজাউদ্দিন, আবদুল কাউয়ুম, তাহসিনা রশদী, বিজন সরকার, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ওবায়দুল ইসলাম, শিরিন সুলতানা, আসাদুজ্জামান আসাদ, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহিরউদ্দিন স্বপন, ফাহিমা মুন্নী।