এবার বাইডেনের বিরুদ্ধে চীনকে তদন্তে আহ্বান ট্রাম্পের

3090
এবার বাইডেনের বিরুদ্ধে চীনকে তদন্তে আহ্বান ট্রাম্পের

প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রকাশ্যে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে তার অভিশংসন চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের দাবিকে আরও উসকে দিলেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের লনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা উচিত চীনের। বৃহস্পতিবার তিনি এমন আহ্বান জানিয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের তথ্যফাঁস করেন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। গত ২৫ জুলাই ওই ফোনালাপ হয়েছে।

এতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা চেয়েছিলেন বলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বাইডেন এবং তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে ওঠা একটি দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ইউক্রেন সরকারকে চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প।

এ সময় কথামতো কাজ না করলে দেশটিকে দেয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নেয়ার হুমকিও দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার এটা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, দেখুন- আমার মনে হয় যদি তারা এ বিষয় সৎ হয়ে থাকেন, তবে তারা বাইডেনের বিরুদ্ধে বিস্তৃত তদন্ত শুরু করবেন। এটি খুবই সহজ জবাব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তাদের উচিত বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করা। একইভাবে চীনেরও বাইডেন বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করা উচিত। কারণ ইউক্রেনের সঙ্গে যা ঘটেছে তারও চেয়েও বড় ঘটনা চীনের সঙ্গে ঘটেছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটিক নেতা জো বাইডেন এবং তার ছেলে হান্টার ইউক্রেন ও চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যবসা সংক্রান্ত চুক্তি করার সময় দুর্নীতি করেছেন।

যদিও নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

২০১৪ সালে হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের গ্যাস কোম্পানি বুরিসমাতে যোগ দেন। ওই সময়ই বাবা-ছেলের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল।

তার পর ইউক্রেনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয় এবং রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাক ওবামা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাইডেনই সেখানে মূল ভূমিকা রাখেন।

২০১৬ সালে জো বাইডেন ইউক্রেন সরকারকে তাদের শীর্ষ কৌঁসুলি ভিক্টোর শোকিনকে বরখাস্ত করতে বাধ্য করেন। শোকিনের বাহিনীই বুরিসমা গ্যাস কোম্পানির মালিকের বাণিজ্যিক নথিপত্র যাচাই-বাছাই করছিল।

ট্রাম্প ও তার মিত্রদের অভিযোগ, বাইডেন আসলে তার ছেলেকে রক্ষা করতে এ কাজ করেছেন। ইউক্রেন সরকার ও অন্যান্য পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং বড় বিনিয়োগকারীরাও ওই সময় শোকিনকে সরিয়ে দিতে চাইছিলেন।

কারণ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানোর কারণে শোকিন তখন সবার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

যদিও গত সপ্তাহে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শোকিনের উত্তরসূরি বলেন, জো বাইডেন বা হান্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ নেই।