কাশ্মীরের পরিস্থিতি আমিরাতের কাছে তুলে ধরবে পাকিস্তান

3090
কাশ্মীরের পরিস্থিতি আমিরাতের কাছে তুলে ধরবে পাকিস্তান

কাশ্মীরে চলামান উত্তেজনার মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বোচ্চ সম্মাননা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। এ ঘটনায় আমিরাতের সমালোচনা করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি। তবে কাশ্মীর পরিস্থিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে তুলে ধরার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান।

রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেন, বিনিয়োগ নিয়ে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক রয়েছে। শিগগিরই আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসব। ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার কথাও জানান। এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা।

এদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে আরব দেশগুলোর এভাবে সরাসরি ভারতের পক্ষাবলম্বন নিয়ে মুসলিম বিশ্বে এক ধরনের আক্ষেপ রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও চলছে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়।

মোদিকে সর্বোচ্চ সম্মাননা দেয়ার সমালোচনা ও নিন্দা করে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের সর্বদলীয় হুররিয়াত কনফারেন্সের নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ গিলানি বলেছেন, মোদিকে পদকটি দেয়া হয়েছে রাজতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে। এতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নেই। তবে আমিরাতের এই পদক্ষেপে কাশ্মীরি জনগণ হতাশ।

এর আগে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পুরস্কৃত করায় সংসদীয় প্রতিনিধি দলের আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান সাদিক সাঞ্জরানি।

আমিরাত সরকারের আমন্ত্রণে রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিনদিনে সফরে যাওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের। এ সময় উপসাগরীয় দেশটির সংসদীয় ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তাদের।

গত ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা রহিত করা হলে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলুপ্ত হয়। মোদি সরকার কাশ্মীরকে দুটি আলাদা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেন। এর পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে চলতি মাসে সীমান্তে পারমাণবিক দেশ দুটির মধ্যে কয়েকদফা গোলাগুলি হয়েছে। এতে দু’দেশের বেশ কয়েকজন সৈনিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ উত্তেজনার মধ্যেই ভারত পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে পারমাণবিক হামলার হুমকি দেয়।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও কাশ্মীরিদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও বলা হয়, কাশ্মীরি জনগণকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।