নৌরুটে নানা সমস্যা:নদীমাতৃক দেশ হয়েও সমাধান নেই কেন?

3090
নৌরুটে নানা সমস্যা:নদীমাতৃক দেশ হয়েও সমাধান নেই কেন?

নদীমাতৃক দেশ হয়েও আমাদের নৌরুটগুলো নাব্য সংকট, ডুবে থাকা লঞ্চ, ডুবোচরসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যার কারণে দিন দিন কমছে নৌরুট। অথচ নিরাপদ, স্বল্প খরচ ও জটমুক্ত হওয়ায় যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে নৌরুটের চাহিদা ও গুরুত্ব যে অপরিসীম, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতের সঙ্গে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন সমস্যা, প্রতিবেশী দেশটির কোনো ধরনের আলোচনা ও তথ্য বিনিময় ছাড়া কেবল নিজেদের স্বার্থে উজানে বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন, সেচ প্রকল্প তৈরিসহ নানাভাবে পানি আটকের কারণে আমাদের অনেক নদী এরই মধ্যে মৃতপ্রায় অবস্থা ধারণ করেছে। ফলে পানির দেশ হয়েও আমাদের পানি নিয়ে নানা সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

জানা যায়, বর্তমানে দেশের প্রধান নৌরুট ঢাকা-বরিশালসহ অন্য রুটগুলোতে নাব্য সংকট, ডুবোচর ও বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার না করা নৌযানগুলো বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২৫ মে বালুবাহী বাল্কহেড এমভি সিয়াম মেঘনা নদীর মিয়ারচর এলাকায় নিমজ্জিত হওয়ার তিন মাসেও উদ্ধার করা হয়নি। এছাড়া ৬ আগস্ট একই নদীর গজারিয়া এলাকায় এমভি টপশিপ কার্গো ও আরেকটি মালবাহী কার্গো ডুবে যায়। এগুলো উদ্ধার না করায় ওই রুট দিয়ে বর্তমানে নৌযান চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মধ্য আগস্ট থেকেই ডুবোচর ও ডুবে থাকা লঞ্চের কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আমাদের নদীকেন্দ্রিক আরেকটি সমস্যা হল একের পর এক নদী শুকিয়ে চরে পরিণত হওয়া। এর পেছনের প্রধানতম কারণ হল উজানে বাঁধ তৈরি করে সেচ প্রকল্প নির্মাণ ও নদীর গতিপথ বদলে দেয়ার বিভিন্ন প্রকল্প। উদ্বেগের বিষয়, নিকটতম প্রতিবেশী দেশ উজানে হয়ে আমাদের এ ক্ষেত্রে বঞ্চিত করছে। নিজেদের প্রয়োজনে তারা একসময় পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, আবার বন্যা মৌসুমে কোনো ধরনের পূর্বাভাস না দিয়েই পানি ছেড়ে দিচ্ছে। এতে করে বর্ষা মৌসুমে আমাদের বাড়তি বন্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে, খরা মৌসুমে নদী শুকিয়ে চর হয়ে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

তিস্তা নদীতে গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করায় বর্তমানে মরা তিস্তায় চর জেগে উঠেছে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি আমাদের অনেক খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। জেলেদের পেশা বদল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির আশা দিয়ে রাখলেও এক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি নেই। সর্বশেষ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে সম্ভাব্য পথ খোঁজার কথার মধ্য দিয়ে তিস্তা চুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় নৌরুট চালু রাখা, নাব্য সংকট মোকাবেলা ও নদীর জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখার জন্য নদী খনন ও অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে অবিলম্বে।