রাজধানীতে বাসচাপায় বিআইডব্লিউটিএ'র নারী কর্মকর্তার পা বিচ্ছিন্ন

3090
রাজধানীতে বাসচাপায় বিআইডব্লিউটিএ'র নারী কর্মকর্তার পা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় বাসের চাপায় এক নারীর বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আহত ওই নারীর নাম কৃষ্ণা রানী রায়। তিনি কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআইডব্লিউটিএ'র হিসাবরক্ষণ বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ওই নারীকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ড হাসপাতাল ও পরে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর বাসটি পুলিশ আটক করলেও পালিয়েছে এর চালক ও হেলপার। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক সৈয়দ পনিরুজ্জামান বলেন, প্রথমে হলি ফ্যামিলিতে নেয়া হলে আহত ওই নারীর মুমূর্ষু অবস্থা দেখে সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান। আমি নিজেই তাকে পঙ্গুতে নিয়ে গিয়েছি।

পনিরুজ্জামান বলেন, পথে ওই নারী জানিয়েছেন- বিআইডব্লিউটিএ’র কারওয়ান বাজার অফিস থেকে তিনি হেঁটে শাহবাগের দিকে যাচ্ছিলেন। শাহবাগের দিক থেকে আসা ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেসের একটি বেপরোয়া বাস (ঢাকা মেট্টো-ব ১১-৯১৪৫) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক চাকা ফুটপাতে উঠে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। এ সময় তিনি মাটিতে পড়ে গেলে বাসটির চাকা তার বাম পায়ের ওপর উঠে যায়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ট্রাফিক পুলিশ বাসটি আটক করে। দুর্ঘটনার পর চালক ও হেলপার বাসটি রেখে পালিয়ে যায়। হাতিরঝিল থানার এসআই খায়রুল আলম বলেন, ট্রাফিক পুলিশের কাছ থেকে বাসটি থানায় নিয়ে এসেছি।

এদিকে ট্রাস্ট পরিবহনের লাইন ইনচার্জ আকতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গাড়ির ব্রেক ফেল ছিল। তাই এ ঘটনা ঘটেছে। তেমন কেউ আহত হয়নি। শুধু একজন নারী পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তবে চালক ও হেলপারের নাম জানাতে চাননি তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল রাজধানীতে দুই বাসচাপায় কারওয়ান বাজারে সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন দুই বাসের চাপায় হাত হারান। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই বছর বাসচাপায় পা হারান রোজিনা। পরে তিনিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।