রাজশাহীতে শোক আর শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

3090
রাজশাহীতে শোক আর শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

জাতীয় শোক দিবসে গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেছেন রাজশাহীর মানুষ। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযথ মর্যাদায় বিভাগীয় এই শহরে পালিত হয়েছে দিবসটি। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশায়িত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন করা হয়। নগরীতে মাইকে প্রচার করা হয় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, কোরআন তিলাওয়াত ও দেশাত্ববোধক গান।

বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকালে নগর ভবনের সামনে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

পরে আবারও নগরীর কুমারপাড়ায় মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

এ সময় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়াও অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর পর সকাল ১০টায় নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নগরীতে একটি শোক র্যা লি বের করা হয়। র্যা লি শেষে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল। এতে বঙ্গবন্ধুসহ ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট নিহত সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে দুপুরে খাবার বিতরণ করা হয়।

এদিকে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে দলীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বেলা ১১টায় রাজশাহী জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার।

পরে জেলা পরিষদে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিবসহ সব সদস্য, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে নগরীর এএইচএম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে থেকে শোক র্যা লি বের করে জেলা প্রশাসন। র্যা লিটি নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান জেলা পরিষদ মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল।

এর আগে অনুষ্ঠিত র্যা লিতে বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক একেএম হাফিজ আক্তার, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার হুমায়ুন কবীর, জেলা প্রশাসক হামিদুল হক, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দরগা এস্টেট ও হেতেমখাঁ বড় মসজিদে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনাসভা, হামদ-নাত প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এ ছাড়া রাজশাহী জেলা ও মহানগরের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী কেন্দ্র থেকে প্রচার হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোও প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। শিশু সদন, সেফহোম, শিশু বিকাশ, হাসপাতাল, কারাগারেও উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। এসব স্থানেও অনুষ্ঠিত হয়েছে দোয়া মাহফিল।