সম্মেলন ও সিটি নির্বাচন নিয়ে দোটানায় আ’লীগ

3090
সম্মেলন ও সিটি নির্বাচন নিয়ে দোটানায় আ’লীগ

ঘোষণা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অক্টোবরে। সব ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর-নভেম্বর থেকে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনী মহড়া শুরু হবে। তবে সম্মেলন ও সিটি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেও আওয়ামী লীগের তেমন প্রস্তুতি নেই। যথাসময়ে সম্মেলন নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সংশ্লিষ্টরা। প্রার্থী বাছাই জটিলতা এড়াতে কৌশলী ভূমিকায় শীর্ষ নেতারা।

একদিকে জাতীয় সম্মেলন, অন্যদিকে সিটি নির্বাচন। এই দুই বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনার পর কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। কাছাকাছি সময়ে বড় এ দুটি ইভেন্ট কিভাবে তুলে আনা যাবে তা নিয়ে দোটানায় আছে আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সিটি নির্বাচন বাধ্যতামূলক হলেও যথাসময়ে দলের সম্মেলন করা বাধ্যতামূলক নয়।

কোনো অনুষ্ঠান পড়ে গেলে বা অন্যকিছু ঘটে গেলে জাতীয় সম্মেলনের সময় রদবদল করা যায়। অনেক জায়গায় কিন্তু ১৭ বছরেও সম্মেলন হয়নি। তবে আমরা দলের নিয়মে প্রতি তিন বছরে সম্মেলন করার চেষ্টা করি।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিয়মে এই নির্বাচন হয়। নির্বাচন কমিশন যখন সিডিউল ঘোষণা করবে তখনই আমরা দলীয় প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করব। এ নিয়ে তেমন কোনো জটিলতা দেখছি না।

আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর। সে হিসাবে আগামী অক্টোবরের ২৩ তারিখে শেষ হচ্ছে ত্রিবার্ষিক কমিটির মেয়াদ।

সম্প্রতি দলটির কার্যনির্বাহী কমিটির একাধিক বৈঠকে অক্টোবরে নির্ধারিত সময়ে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অপরদিকে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুই মেয়র ওই বছর ৬ মে শপথ গ্রহণ করেন। সে অনুযায়ী আগামী বছরের মে মাসে মেয়াদ শেষ হবে মেয়রদের।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে ভোট করতে হবে। সে হিসেবে আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনী মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মতে, ঢাকার দুই সিটিসহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভোট কোনোভাবেই জানুয়ারির আগেই শেষ করতে হবে। আর দলীয় সম্মেলন কিছুদিন পেছানো যেতে পারে।

সেক্ষেত্রে কোনোভাবে ডিসেম্বরের পরে নয়। এই দুই বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করেও কোনো পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পারেনি। আসেনি সম্মেলন ও সিটি নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত। ফলে এ নিয়ে সংশয় আরও বেড়েই যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে।

সম্মেলন নিয়ে সম্প্রতি সংশয় সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে। তারা বলছেন, দেশে ডেঙ্গু ও বন্যার প্রাদুর্ভাবের কারণে সম্মেলন প্রস্তুতি শুরুই করা যায়নি।

এছাড়া শোকাবহ আগস্টে বন্ধ থাকে দলের অন্যান্য কর্মসূচি। জাতীয় সম্মেলন করার আগে জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করা, কাউন্সিলর, ডেলিগেট নির্বাচন করা, চাঁদা পরিশোধ করা ও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাবকমিটি গঠন করা এসব কিছুই করা হয়নি এখন পর্যন্ত।

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূল আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলনও হচ্ছে না। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

সব মিলিয়ে নানা পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময় এবারের সম্মেলন না-ও হতে পারে। তবে অক্টোবরে না হলেও এ বছরের মধ্যেই জাতীয় সম্মেলন হবে বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই।

এদিকে আগামী ২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সে বছর ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। সরকার ও দলের হাইকমান্ড চায়, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালনে ঢাকার দুই সিটি ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত থাকুক।

এজন্য ডিসেম্বর মাসকেই সিটি কর্পোরেশনের ভোটের জন্য উপযুক্ত সময় মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি, ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।

মার্চে থাকবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ব্যাপক কর্মসূচি। আর মে মাস থেকে শুরু হবে রমজান। এসব মিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বেশ জটিলতায় পড়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।