হাসিনা আমাকে মিষ্টি পাঠান, আর মমতা পাঠান কুর্তা : মোদি

3090
হাসিনা আমাকে মিষ্টি পাঠান, আর মমতা পাঠান কুর্তা : মোদি

‘শেখ হাসিনা আমাকে মিষ্টি পাঠান, আর মমতা পাঠান কুর্তা’-কথাটি বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশটির বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় এ কথা বলেন দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর হওয়ার আশায় থাকা এই রাজনীতিবিদ।

অনুষ্ঠানটি ছিল পুরোটাই ব্যক্তি নির্ভর। অর্থাৎ শুধুমাত্র ব্যক্তি মোদিকে নিয়েই কথা হবে অক্ষয়ের। শর্তও ছিল, কোনোভাবেই রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে কথা হবে না। আর এতে অক্ষয় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেও বিষয়টি পরে সামলে নেন এই অভিনেতা।

অখণ্ড ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিনোদন জগতের তারার এই আলাপচারিতায় উঠে এসেছে নানা বিষয়। শৈশব থেকে বর্তমান, মোদি তার জীবনের কথা বলেছেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় জওয়ানদের দেখে উদ্বুদ্ধ হতেন তিনি। যখন সেনাকর্মীরা তার এলাকায় আসতেন, তিনি চা খেতে দিতেন। মনীষীদের বই পড়তে ভালো লাগে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

১৮-২২, এই বয়সে নানা জায়গায় ঘুরেছেন মোদি। দেশের বিভিন্ন পুণ্যস্থান ভ্রমণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন বলে কখনও ভাবেননি বলেও জানান নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু যখন দায়িত্ব পেলেন, দেশ সেবায় মনযোগী হয়ে পড়লেন। নানা দেশে ঘুরেছেন, সকলের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।

এক পর্যায়ে কলকাতা ও বাংলাদেশের কথাও বলেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বছরে একটি-দুটি কুর্তা পাঠান। বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনা মিষ্টি পাঠান। আমি আনন্দিত হই। তাদের আপ্যায়ন আমাকে আন্দোলিত করে।"

সাক্ষাৎকারে মোদি আরও বলেন, "আমি সাড়ে তিন ঘণ্টা থেকে চার ঘণ্টা ঘুমাই। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে তিনিও আমার ঘুমের কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন।"

সাধারণ মোদি কেমন জানতে চাইলে অক্ষয় কুমারকে তিনি বলেন, "ঠাণ্ডা লাগলে আমি গরম পানি পান করি। সপ্তাহে দু"দিন উপবাস করি। নাকের ফুটোতে সরষের তেল দিই। এতে জ্বালা করে ঠিকই, তবে উপকার হয়।"

এ সময় অক্ষয় তার গাড়ি চালকের একটি প্রশ্ন রয়েছে বলে জানান। মোদি জানতে চান কী প্রশ্ন? অক্ষয় জানান, সে জানতে চায় আপনি আম খেতে ভালোবাসেন কি না? এ সময় হেসে ফেলেন মোদি। পরে বলেন, "হ্যাঁ, আমি আম খেতে ভালোবাসি।"

তিনি আরও বলেন, "আগে আমরা মাঠে গিয়ে আম খেতাম। এখন অবশ্য আগের মতো অতো আম খাই না। আমার সঙ্গে আমার কনিষ্ঠজনদের কোনো দূরত্ব নেই। আমরা নিজেদের মধ্যে আনন্দ করি। একসঙ্গে খাওয়া দাওয়াও করি।"

একান্ত আলাপচারিতা আরও দীর্ঘ ছিল অক্ষয়-মোদির। তবে আলাপচারিতার শেষ দিকে মোদি বলেন, "আমি কখনও রাগ করি না। অনেকেই অবাক হন। এত বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী রয়েছি, কখনো রাগ দেখাইনি। আমার দায়িত্বই আমার জীবন। এ ব্যাপারে আমি খুবই কড়া ও শৃঙ্খলাপরায়ণ। তবে অন্যকে হেনস্তা করায় আমি বিশ্বাসী নই।"

আলাপচারিতার একটি ভিডিও ফুটেজ নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টেও প্রকাশ করেন অক্ষয় কুমার। এর উত্তরও দেন মোদি। তিনি লেখেন- প্রিয় অক্ষয়, তোমার সঙ্গে রাজনীতি ও নির্বাচনের বাইরে গিয়ে এই কথোপকথন আমার ভালো লেগেছে। আশা করি সকলের ভাল লাগবে।